জেনে নিন শেয়ার বাজার থেকে রোজগারের উপায়

শেয়ার বাজার থেকে রোজগার

যদি আপনি শেয়ার বাজার থেকে রোজগার করতে চান তাহলে সঠিক জায়গায় এসেছেন। আমি আপনাদেরকে শেখাবো কীভাবে শেয়ার বাজারে শেয়ার কেনাবেচা করে আপনারা রোজগার করতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনাকে ব্যয় করতে অনেকখানি সময়। জানতে হবে শেয়ার বাজার সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তথ্য। তাহলে শুরু করা যাক ।

শেয়ার বাজার কি?

শেয়ার বাজার হল এমন একটি জায়গা যেখানে বিভিন্ন ধরণের পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিগুলো স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে তাদের শেয়ার কেনাবেচা করে থাকে। ভারতে দুটি স্টক একচেঞ্জ রয়েছে একটি হল বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE), আরেকটি হল ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE)।

শেয়ার বাজার থেকে শেয়ার কিনব কীভাবে?

শেয়ার বাজার থেকে কোন কোম্পানির শেয়ার বা স্টক কেনাবেচা করতে গেলে আমাদের প্রয়োজন ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট এবং আমাদের কেনা শেয়ার কয়েকদিন বা কয়েকমাস বা কয়েকবছরের জন্য আমাদের কাছে রাখতে গেলে প্রয়োজন ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের। বাজারে এমন অনেক ব্রোকার ফার্ম আছে যারা এক সঙ্গে ট্রেডিং আর ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে জিরোধা খুব কম ব্রোকারেজ চার্জ নিয়ে ট্রেডিং আর ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা দিয়ে থাকে। জিরোধাতে অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে এই লিংকে যান www.zerodha.com

শেয়ার বাজার থেকে রোজগার করব কীভাবে?

শেয়ার বাজার থেকে আমরা কোন কোম্পানির স্টক বা শেয়ার কেনাবেচার মাধ্যমে রোজগার করতে পারি। শেয়ার বাজারে আমরা দুই রকম ভাবে রোজগার করতে পারি। এক হল ইনভেস্ট আর দুই হল ট্রেডিং। তবে এই ইনভেস্ট আর ট্রেডিং এর জন্য আমাদের শিখতে হবে শেয়ার বা স্টকের ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস এবং টেকনিক্যাল এনালাইসিস। ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিসের মাধ্যমে ফান্ডামেণ্টালি শক্তিশালী শেয়ার বেছে নিয়ে আমরা ইনভেস্ট করতে পারি। আর টেকনিক্যাল এনালাইসিসের মাধ্যমে ইন্ট্রাডে ট্রেডিং , সুইং ট্রেডিং , অপশন ট্রেডিং করে আমরা শেয়ার বাজার থেকে রোজগার করতে পারি।

শেয়ার বাজার থেকে রোজগার

ফান্ডামেন্টাল এবং টেকনিক্যাল এনালাইসিসের জ্ঞান ছাড়া শেয়ার বাজারে টাকা লাগানো মানে সেটা জুয়া খেলার মত ব্যাপার। এতে আমাদের টাকা পয়সা নষ্ট ছাড়া আর কিছুই হবে না । তাই আগে শেয়ারের ফান্ডামেন্টাল এবং টেকনিক্যাল এনালাইসিস করতে শিখুন তারপর আপনারা শেয়ার বাজারে টাকা লাগান। এতে লোকসান কম লাভ বেশি হবে।

শেয়ার বা স্টকের ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস কি?

ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস হল কোন কোম্পানির আর্থিক কর্মকাণ্ড কেমন চলছে এবং ভবিষ্যতে ঐ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা কেমন হতে পারে এই বিষয়গুলো বিবেচনা করা। কোম্পানির বার্ষিক রিপোর্ট, ব্যালান্স শিট, প্রফিট-লস, ক্যাশ ফ্লো সম্পর্কে জানা। কোম্পানির ধার আছে কিনা সেই সম্পর্কে জানা। কোম্পানির শেয়ার বন্ধক আছে কিনা জানা। কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে জানা। কোম্পানির ব্যবসা ভবিষ্যতে বাড়বে কিনা জানা। ভবিষ্যতে কোম্পানির লক্ষ্য কি সেই সম্পর্কে জানা। কোম্পানির ভেতরের খবর সম্পর্কে জানা।

এছাড়া রয়েছে ডলার রেট, গভর্নমেন্টের পলিসি, ইন্টারেস্টের প্রভাব ইত্যাদি সম্পর্কে জানা। এক কথায় কোন কোম্পানির শেয়ার কেনার আগে সেই কোম্পানির ব্যবসা সম্পর্কে সমস্ত তথ্য জেনে তার ভ্যালুয়েশন বের করে লম্বা সময় অবধির জন্য ইনভেস্ট করা।

সত্যি বলতে কি ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস হচ্ছে একটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। যদি আপনি সফল প্রোফেশনাল ইনভেস্টর অথবা ট্রেডার হতে চান তাহলে ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস সম্পর্কে জ্ঞান থাকা খুব জরুরি। ইনভেস্টের ক্ষেত্রে ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস হচ্ছে এক নম্বর পদ্ধতি, এর কোন তুলনা নেই। কিন্তু আমাদের মত সাধারন মানুষের পক্ষে কোম্পানির ভেতরের সব খবর সম্পর্কে জেনে সেই কোম্পানিতে ইনভেস্ট করে শেয়ার বাজার থেকে রোজগার করা একটু কষ্টকর ব্যাপার।

শেয়ার বা স্টকের টেকনিক্যাল এনালাইসিস কি?

টেকনিক্যাল এনালাইসিস হল চার্টে কোন একটি শেয়ারের অতীত এবং বর্তমানের দামের পরিবর্তন ও গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করে ভবিষ্যতে শেয়ারটির দাম কেমন হতে পারে সেই বিষয়টি অনুমান করা। এর জন্য শুধু প্রয়োজন চার্টের। এখন সব ব্রোকার ফার্মই ট্রেডিং অ্যাকাউন্টের সাথে চার্ট দিয়ে থাকে। চার্ট দেখলেই বোঝা যায় শেয়ারটির দামের গতিমুখ বা ট্রেন্ড কোন দিকে – শেয়ারের দাম ঊর্ধ্বমুখী না নিম্নমুখী না সমান্তরাল। চার্টে তৈরি হওয়া শেয়ারের প্যাটার্ন ও ট্রেন্ড দেখেই আমরা শেয়ারটির দাম বাড়বে না কমবে নির্ধারণ করতে পারি।

টেকনিক্যাল এনালাইসিস শিখে আমরা রোজ শেয়ার কেনাবেচা করতে পারি, কয়েকদিন বা কয়েকমাসের জন্য কিনে দাম বাড়লেই বিক্রি করে দিতে পারি, অপশন ট্রেডিং করতে পারি। এক কথায় টেকনিক্যাল এনালাইসিস শিখে সহজে আমরা অল্প সময়ের মধ্যে শেয়ার বাজার থেকে রোজগার করতে পারি।

টেকনিক্যাল এনালাইসিস শিখতে গেলে আমাদের যা যা শিখতে হবে সেইগুলো হল

  • চার্টের ধরন
  • ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন
  • চার্ট প্যাটার্ন
  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স
  • টেকনিক্যাল ইনডিকেটর
  • ফিবোনাকি রিট্রেসমেন্ট

উপরের টেকনিক্যাল এনালাইসিসের প্রতিটা অংশ সম্পর্কে ধাপে ধাপে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব বিভিন্ন পোস্টে। সেই সঙ্গে লিংকও শেয়ার করে দেবো। বুঝতে অসুবিধা হলে কমেন্ট করে জানাবেন । ভালো লাগলে লেখাটি শেয়ার করে সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে দিন এবং অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন। আজ তাহলে আসি। দেখা হবে আগামি পোস্টে। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top